যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার ছাত্র সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি বা বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়। কলকাতার উপকন্ঠে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাখিবন্ধন অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে এবিভিপির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। দু’পক্ষের হামলা-পালটা হামলায় এবিভিপির দুই সদস্য আহত হয় বলে জানা গেছে। গলায়, ঘাড়ে আঘাত নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে ঘিরে। এবিভিপির দাবি, কথা বলার অছিলায় অরূপ নামে ওই ছাত্রকে হোস্টেলে ডেকে মারধর করা হয়। আলতাফ নামে টিএমসিপির এক সদস্যের নাম উঠে আসে এই ঘটনায়। খবর পেয়ে এবিভিপির ছাত্ররা হোস্টেলে পৌঁছায়। মারধরে বাধা দিতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।
এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠক বলেন, “অরূপকে কথা বলার নাম করে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে আমরা হোস্টেলে গেলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা আমাদের ছাত্রদের মারধর করে। ব্লেড চালানো হয়েছে। অরূপ ও আমাদের আরেক সদস্য গুরুতর জখম হয়েছে।”
প্রীতম আরও বলেন, “আসলে আমরা এখানে একটা রাখিবন্ধন উৎসবের আয়োজন করছিলাম। তার জন্য প্রয়োজনীয় অনুদানের আবেদনে ভিসি স্যার (উপাচার্য) সই করে দিয়েছেন। এতেই ওদের আপত্তি। বলছে, এবিভিপি কেন রাখির জন্য টাকা পাবে? কেন টিএমসিপি পাবে না? এই নিয়েই ওরা আমাদের উপর চড়াও হয়।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে ঘটনার যোগ অস্বীকার করে হোস্টেলের ছাত্র গিয়াস, রহমত ও শরীফদের পালটা দাবি, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র। কোনও দলে নেই। ওরাই (এবিভিপি) হোস্টেলে ঢুকে আমাদের মারধর করেছে। আমাদের ১০-১২ জন ছাত্র জখম হয়েছে।”
এনিয়ে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের বলেন, “তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে এবিভিপির ছাত্রদের মারধর করেছে।”
জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, “কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে, তা ভাইস চ্যান্সেলরের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
খুলনা গেজেট/এনএম

